সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের বিরাসার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী কুদ্দুস মিয়া (৬০) পলাতক রয়েছেন।
নিহত মারুফা আক্তার সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের উলচাপাড়া গ্রামের তাহের মিয়ার মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় মাস আগে বিরাসার গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার সঙ্গে মারুফার বিয়ে হয়। এটি মারুফার তৃতীয় এবং কুদ্দুসের দ্বিতীয় বিয়ে। কুদ্দুস পেশায় রিকশাচালক। আগের সংসারে মারুফার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। কুদ্দুস প্রায় আট বছর ধরে বিভিন্ন মাজারে ঘুরে বেড়াতেন। এ সূত্রেই মারুফার সঙ্গে তার পরিচয় হয় বলে জানা গেছে। বিয়ের পর তারা বিরাসার গ্রামের পাল্লা পুকুরের পশ্চিমপাড়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কুদ্দুস মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি প্রায়ই নেশা করে স্ত্রীকে মারধর করতেন। গত রবিবার রাতে নেশা করার জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা চান কুদ্দুস। মারুফা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মারধর করেন তিনি।
পরদিন সোমবার সকালে ঘরের ভেতর থেকে মারুফার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে মুঠোফোনের রিংটোনের শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘরের ভেতরে ঢুকে মারুফার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা নিহতের পরিবার ও পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন কুদ্দুস।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খাইরুল আলম বলেন, “নিহতের বুকে ও পিঠে ছুরির একাধিক আঘাত রয়েছে। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী পলাতক। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্বামীই তাকে হত্যা করেছেন। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
Leave a Reply