ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, চ্যানেল নিউজ : ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গোপনে দেহব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপ চলার অভিযোগ উঠেছে। আবাসিক বাসা, ভাড়া করা কক্ষ ও কিছু নির্দিষ্ট স্থাপনাকে কেন্দ্র করে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। অভিযোগ রয়েছে, মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের এসব স্থানে নিয়ে আসা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের তুলনায় সন্ধ্যার পর কয়েকটি এলাকায় অপরিচিত নারী-পুরুষের যাতায়াত বেড়ে যায়। স্বল্প সময়ের জন্য কক্ষ ভাড়া নেওয়া, ঘন ঘন ব্যক্তির পরিবর্তন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের তৎপরতা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
কীভাবে চলছে কথিত এই কার্যক্রম?
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, সরাসরি কোনো স্থানে গিয়ে যোগাযোগের পরিবর্তে মোবাইল ফোন ও অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে আগে থেকেই সময় ও স্থান নির্ধারণ করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট কক্ষ বা বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এ কাজে কয়েকজন মধ্যস্থতাকারী সক্রিয় রয়েছে। তারা সম্ভাব্য গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট নারীদের মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি স্থান ব্যবস্থাপনার কাজও করে থাকে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন।
আবাসিক এলাকায় বাড়ছে উদ্বেগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবাসিক এলাকায় এমন কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে কিশোর-কিশোরীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রাতের দিকে কিছু জায়গায় অপরিচিত মানুষের যাতায়াত চোখে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে অনেকেই কথা বললেও প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চান না।”
আরেক বাসিন্দার দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি ও তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে।
নজরদারির অভাব, নাকি অন্য কোনো কারণ?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—এ ধরনের কার্যক্রম যদি সত্যিই দীর্ঘদিন ধরে চলে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে তা কতটা এসেছে?
স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংশ্লিষ্টরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। তবে প্রশাসনের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য ছাড়া এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ
দেহব্যবসা বা অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও প্রমাণ সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শুধু স্থানীয় গুঞ্জন বা কারও অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশের বক্তব্য, অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো তদন্ত হয়েছে কি না, কোনো অভিযান বা মামলা হয়েছে কি না এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে কি না—এসব তথ্য জানা জরুরি।
প্রশ্নের মুখে সামাজিক নিরাপত্তা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকায় এমন অভিযোগের বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, অভিযোগগুলো সত্য হলে শুধু অভিযান চালিয়ে বিষয়টি শেষ না করে এর নেপথ্যে থাকা দালালচক্র, অর্থের লেনদেন ও সম্ভাব্য সংগঠকদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে নিরীহ বা জোরপূর্বক এই কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের মানবিক ও আইনগত সুরক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং মিথ্যা অভিযোগ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তবে এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
Leave a Reply