স্থানীয়রা জানান, বিজয়নগর উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে আক্তার ও বকুল পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার স্থানীয় বাজারে আক্তার পক্ষের এনাম ও বকুল পক্ষের রুবেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন বাড়িতে ফিরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় রুবেল মিয়ার বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে।
এরই জেরে রোববার সকাল ৭টার দিকে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। সকাল ১০টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় ও পরে কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানান তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক বছর ধরে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। বারবার এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।
খবর পেয়ে বিজয়নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে জেলা পুলিশ লাইনস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের বিরোধের স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব হবে।
Leave a Reply