সোহেল সরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংবাদদাতা : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আজ পালিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি মহাষ্টমী। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, চণ্ডীপাঠ ও পুষ্পাঞ্জলির মধ্য দিয়ে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে দেবী দুর্গার আরাধনা। মহাষ্টমীর আনুষ্ঠানিকতায় এবারও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে কুমারী পূজা।
মহাষ্টমী উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মহাদেব পট্টি, পাইকপাড়া, সাহাপাড়া ও কান্দিপাড়া পাওয়ার হাউস রোডের আখড়াবাড়ি মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি কুমারী পূজাকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যেও রয়েছে বিশেষ আগ্রহ।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কুমারী পূজায় একজন কন্যাশিশুকে দেবীর প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে তাঁর মধ্যে নারীশক্তির আরাধনা করা হয়। সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী কন্যাশিশুকে কুমারী হিসেবে নির্বাচন করে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়।
ভক্তদের বিশ্বাস, নারীর মধ্যেই মহামায়ার শক্তির প্রকাশ রয়েছে। সেই বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা থেকেই কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়। পূজার বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষে কুমারীকে আসনে অধিষ্ঠিত করে নানা উপাচারে তাঁর পূজা করা হয়। এ সময় ভক্তরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আশীর্বাদ গ্রহণ করেন।
মহাষ্টমী উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোতে চণ্ডীপাঠ, পুষ্পাঞ্জলি, নৈবেদ্য নিবেদনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালিত হচ্ছে। মহাদেব পট্টি মন্দিরসহ জেলার বিভিন্ন মন্দিরে পূজার আনুষ্ঠানিকতাকে কেন্দ্র করে ভক্তদের উপস্থিতি ও উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।
ধর্মীয় আখ্যান অনুযায়ী, মহাষ্টমী অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে দেবীশক্তির বিজয়ের প্রতীক। এ কারণে দুর্গোৎসবের এই গুরুত্বপূর্ণ তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করে বিশেষ ধর্মীয় আবেগ, ভক্তি ও উৎসাহ।
মহাষ্টমীকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্তদের সমাগম বাড়ছে। দেবীর বন্দনা, পুষ্পাঞ্জলি ও নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে উঠেছে পূজামণ্ডপগুলো।
Leave a Reply