দুই বছর পর আবারও তিতাসের বুকে ছুটলো রঙ-বেরঙের নৌকা।
বাইচকে ঘিরে সকাল থেকেই নদীর দুই পাড়ে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়।
বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত নৌকা বাইচ।
বৈঠার ছন্দে ছন্দে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলে একের পর এক নৌকা। জয়ের লক্ষ্যে মাঝিদের প্রাণপণ চেষ্টা আর দর্শকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে তিতাসের দুই পাড়।
ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা বাইচের উদ্বোধনী ও পুরস্কার বিতরণী আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, সংসদ সদস্য, ২৪৫ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ এবং সভাপতি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ্ মোঃ আব্দুর রউফ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আবুসাঈদ।
নৌকা বাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়—এটি গ্রামবাংলার প্রাচীন লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ। নদীমাতৃক বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুগ যুগ ধরে জড়িয়ে আছে নৌকা আর বৈঠার এই ছন্দ।
নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে নদীর দুই পাড়ে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও উপভোগ করেন গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার। বিজয়ী দলের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজনস্থল।
“দীর্ঘ দুই বছর পর তিতাস নদীতে অনুষ্ঠিত এই নৌকা বাইচ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন শুধু বিনোদনের খোরাকই জোগায়নি, বরং নতুন প্রজন্মের কাছেও তুলে ধরেছে বাংলার নৌকা বাইচের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি।”
দীর্ঘ বিরতির পর তিতাসের বুকে বৈঠার ছন্দে ফিরে এলো ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, নিয়মিত এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়বে বাংলার এই লোকজ ঐতিহ্য।
Leave a Reply