প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ৩:১৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ৪:৫৩ পি.এম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, চ্যানেল নিউজ : একদিকে ময়লা-আবর্জনায় বিপর্যস্ত তিতাস নদী, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের বর্জ্য ও দখলে সংকুচিত টাউনখাল। এর সঙ্গে প্রতিদিনের যানজট এবং সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল—সব মিলিয়ে নাগরিক ভোগান্তিতে নাকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরবাসী। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা সমাধানের দাবি থাকলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এবার শহরের দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনটি বড় উদ্যোগ নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক শরিফুল ইসলাম। তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শহরের পরিবেশ ও নাগরিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সচেতন নাগরিকরা।
পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পৌরসভাকে আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। তবে সীমিত বাজেট, প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি এবং পৌরসভার নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ।
এর মধ্যেই শহরের তিনটি বড় সমস্যা—তিতাস নদী, টাউনখাল ও যানজট—সমাধানে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
পৌর প্রশাসক শরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে তিনি কাজ করছেন। ধাপে ধাপে এসব সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি পৌর শহরকে আধুনিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রথম উদ্যোগ: তিতাস নদী উদ্ধার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিচয় ও ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে তিতাস নদী। দীর্ঘদিনের দূষণ, ময়লা-আবর্জনা ও নানা অব্যবস্থাপনায় নদীটির সৌন্দর্য ও স্বাভাবিক পরিবেশ অনেকটাই নষ্ট হয়েছে।
পৌর প্রশাসকের পরিকল্পনায় নদী থেকে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং নদীকে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ রয়েছে। শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নয়, ভবিষ্যতে যাতে নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ থাকে, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শরিফুল ইসলাম বলেন, তিতাসকে পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করা গেলে এটি পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি শহরের সৌন্দর্যবর্ধন এবং মানুষের বিনোদনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দ্বিতীয় উদ্যোগ: বর্জ্যমুক্ত ও আধুনিক টাউনখাল
শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ টাউনখাল। অথচ দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনা, দখল ও অব্যবস্থাপনায় খালটির স্বাভাবিক কার্যকারিতা অনেকটাই ব্যাহত হয়েছে।
টাউনখালকে বর্জ্য ও ময়লামুক্ত করার পাশাপাশি এর আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পৌর প্রশাসক।
তিনি বলেন, টাউনখাল কার্যকরভাবে সংস্কার ও পরিচ্ছন্ন করা গেলে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা কমানোর পাশাপাশি শহরের পরিবেশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে শুধু পরিষ্কার করেই দায়িত্ব শেষ করতে চান না তিনি। পরিষ্কারের পর যাতে খালে পুনরায় বর্জ্য ফেলা না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন পৌর প্রশাসক শরিফুল ইসলাম।
তৃতীয় উদ্যোগ: ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে যানজট নিরসন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের অন্যতম দৃশ্যমান নাগরিক সমস্যা যানজট। বিশেষ করে ব্যস্ত বাজার, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
পৌর প্রশাসক জানিয়েছেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলোকে নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে আনার পাশাপাশি অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শহরের যানজট কমিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিন উদ্যোগ ঘিরে নাগরিক প্রত্যাশা
তিতাস নদী উদ্ধার, টাউনখাল আধুনিকায়ন এবং যানজট নিরসন—তিনটি উদ্যোগই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে পৌর প্রশাসকের ঘোষিত পরিকল্পনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নগরবাসীর ভাষ্য, শহরকে আধুনিক করতে হলে শুধু সড়ক বা ভবন নির্মাণ করলেই হবে না। পরিবেশ সংরক্ষণ, পানি নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং যান চলাচলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাও জরুরি। সে বিবেচনায় পৌর প্রশাসকের তিনটি উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
তাদের প্রত্যাশা, এর আগের মতো এসব উদ্যোগ যেন কেবল ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। তিতাস ও টাউনখাল পরিষ্কারের পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, বর্জ্য ফেলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নিয়ম প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনতে পারে।
সীমিত বাজেট ও জনবল সংকটের মধ্যেও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা নগরবাসীর।
প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। তবে তিতাস নদী উদ্ধার, টাউনখাল আধুনিকায়ন ও যানজট নিরসনের উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তিতাসপাড়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়া আরও পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে।