পবিত্র ঈদুল আযহা সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ ও সমৃদ্ধি

কোরবানি আসে হিংসা, বিদ্বেষ ও অন্তর্নিহিত পশুত্বকে জবাই করার মহান প্রেরণা নিয়ে এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শনের জন্য। সেই সাথে, মানুষের মধ্যে সাম্য ও মৈত্রী প্রতিষ্ঠার জন্য। তাই কোরবানির প্রকৃত তাৎপর্য অনুধাবনের মধ্যেই সামগ্রিক কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

আমাদের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতিতে ত্যাগের পরিবর্তে ভোগ ও লুণ্ঠন, ক্ষমার পরিবর্তে প্রতিহিংসা, সাম্যের পরিবর্তে বৈষম্য, হৃদ্যতার পরিবর্তে বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপকভাবে। পশু কোরবানি আমাদের জীবনকে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত করুক এবং সব ভেদাভেদ ভুলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা জাগ্রত করুক। কোরবানি মনের ভেতর লুকিয়ে থাকা পশুত্ব তথা মনুষ্যত্বহীনতাকে ধ্বংস করে দিক; আমাদের জাতীয় জীবনে যাবতীয় অন্যায় ও অসদাচরণকে দূর করে দিকÑ আজকের দিনে এটিই প্রত্যাশা।

সমগ্র মুসলিম জাতির কাছে দুটি দিন বিশেষ আনন্দময়। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। বাংলাদেশে ঈদুল আযহাকে কোরবানির ঈদ বলা হয়ে থাকে। ঈদুল আযহার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোরবানি। কোরবানি শব্দটি এসেছে ‘কুরব’ থেকে– যার অর্থ নৈকট্য, সান্নিধ্য ও নিকটবর্তী হওয়া। অন্যদিকে, কোরবানি শব্দের অর্থ উৎসর্গ। পারিভাষিক অর্থে ‘কোরবানি’ ওই মাধ্যমকে বলা হয়, যার দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য হাসিল হয়।

প্রচলিত অর্থে ঈদুল আযহার দিন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে শরঈ তরীকায় যে পশু জবাই করা হয়, তাকে ‘কোরবানি’ বলা হয়। সকালে রক্তিম সূর্য উপরে ওঠার সময়ে ‘কোরবানি’ করা হয় বলে এই দিনটিকে ‘ইয়াওমুল আযহা’ বলা হয়ে থাকে। কোরবানি মুসলমানদের জন্য একটি ধর্মীয় ইবাদত। জিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে এই ইবাদত পালন করতে হয়। ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্যই কোরবানি আবশ্যকীয়।

মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে চ্যানেল নিউজের সকল দর্শক, পাঠক, লেখক, সাংবাদিক ও বিজ্ঞাপনদাতাকে জানাই অগ্রিম ঈদ মোবারক ও শুভেচ্ছা ।
পবিত্র ঈদুল আযহা সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ ও সমৃদ্ধি।

কাজী জহির উদ্দিন তিতাস
সম্পাদক
চ্যানেল নিউজ, ঢাকা।
(চাঁদনী মিডিয়া গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা...