ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’র উদ্বোধন

চ্যানেল নিউজ বিডি ডটকম :: কুড়িগ্রামে উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আসন্ন ঈদের শুভেচ্ছা হিসেবে সেতুটি উদ্বোধনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

সেতু উদ্বোধনের আগে দেওয়া বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক সময় কুড়িগ্রামসহ রংপুর এলাকা ছিল মঙ্গাপীড়িত এলাকা। ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরম মঙ্গা দূর হয়। পরে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে আবার মঙ্গা দেখা দেয়। পরবর্তীতে তাঁর সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে এই অঞ্চলের মঙ্গা দূর হয়েছে। এই এলাকার মানুষ এখন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে।’

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর শাসনামলের স্বল্প সময়ে নেওয়া উন্নয়ন কর্মসূচির উল্লেখ করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নেওয়া উন্নয়ন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় নানা ধরনের কর্মসূচি নেওয়ার মাধ্যমে আমাদের সরকারের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা। জাতির পিতার স্বপ্ন তৃণমুল পর্যায়ে উন্নয়ন করা।’ তাঁর সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, অবহেলিত অঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ছিটমহল বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্তির পর ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। কোনো সরকারই স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবাস্তনে ভূমিকা নেয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারই তা করতে পেরেছে। পৃথিবীর ইতিহাসে শান্তিপূর্ণ ভূখণ্ড হস্তান্তরের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে।

গ্রামের মানূষ ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল পাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের কল্যাণই তাঁর সরকারের লক্ষ্য। বর্ষায় নব্যতা বৃদ্ধি ও পানি ধারণ করে রাখার জন্য ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ধরলাসহ বিভিন্ন নদনদী খনন করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ভিডিও কনফারেন্সে গণভবনে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মোশারফ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান, সংসদ সদস্যবৃন্দ ও প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিবসহ সরকারি পদস্থ কর্মকর্তারা।

ফুলবাড়িতে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপি, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত সচিব রইচ উদ্দিন ও অতিরিক্ত সচিব মাহবুবুল আলম, জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন, পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাফর আলী, লালমনিরহাট জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড.মতিয়ার রহমান প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুজ্জামান আহমেদ, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি অ্যাডভোকেট সফুরা খাতুন, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাফর আলী, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রাশেদুজ্জামান বাবুসহ কয়েকজনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলেন।

কুড়িগ্রাম এলজিইডি’র তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থ ও প্রযুক্তিতে এই গার্ডার সেতুটি নির্মিত হয়েছে। ১৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৫০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি উত্তারাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু। এটি উত্তর ধরলার তিনটি ইউনিয়নসহ কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার আর্থ সামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে এলাকাবাসী। সেতুটির সুবিধা পাবে অন্তত ২০ লাখ মানুষ।

এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সেতুটির নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। এটি নির্মাণ করেছে সিমপ্লেক্স ও নাভানা কনস্ট্রাকশন গ্রুপ। ৯৫০ মিটার দীর্ঘ ও ৯ দশমিক ৮০ মিটার চওড়া সেতুটির ১৯টি স্প্যান ও ৯৫টি গার্ডার রয়েছে। দৈর্ঘ্যে বঙ্গবন্ধু সেতুর পর এই সেতুর অবস্থান বলে নির্মাণকারী সংস্থা এলজিইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা...