ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে আয়োডিনবিহীন লবণের ছড়াছড়ি

বিজয়নগর থেকে রবিন ভূইয়া :: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার বাজারগুলোতে প্রশাসনের নিয়ম ভঙ্গ করে অবাধে আয়োডিনবিহীন লবণ বিক্রি করছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। স্বল্পমূল্যে বাজারজাত হওয়ায় এসব আয়োডিন বিহীন লবণ ক্রয় করে ব্যবহার করছে নি¤œ ও নি¤œ মধ্যম আয়ের মানুষ। বিজয়নগর উপজেলার প্রধান প্রধান হাট-বাজারগুলোতে অবাধে আয়োডিনবিহীন লবণ বিক্রি চলছে।
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ নি¤œ ও নি¤œ মধ্যম আয়ের হওয়ায় কম দামের জিনিসের প্রতি তাদের আগ্রহ বেশি হওয়াটায় স্বাভাবিক। তাই খোলা বাজারের আয়োডিনবিহীন লবণ বেশি বেচা কেনা হয়। এই সুযোগে পশুর বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের নামে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক লাভের আশায় আয়োডিনবিহীন লবণ বাজারে বিক্রি করছে। বিজয়নগর উপজেলার প্রায় সব বাজারেই এই আয়োডিনবিহীন লবণ সহজে পাওয়া যাচ্ছে।
স্বরেজমিনে জানা গেছে, আয়োডিনযুক্ত লবণের বর্তমান দর প্রতি কেজি ৩৮ টাকা আর অপরদিকে আয়োডিনবিহীন লবণ প্রতি কেজি ২০-২২ টাকা। কেজি প্রতি এই বৈষম্যের কারণে মূলত ক্রেতারা আয়োডিনবিহীন লবণের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। এবং স্বল্পমূল্যে বাজারজাত হওয়ায় দিন দিন বাজারে আয়োডিনবিহীন লবণের আমদানী বাড়ছে।
১৯৮৯ সালের ১০ নং আয়োডিন অভাবজণিত রোগ প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী বাজারে সরবরাহকৃত ভোজ্য লবণে জলীয় অংশের পরিমান তার অশুষ্ক নমুনার ওজনের ৬.০ শতাংশের বেশী হবেনা এবং লবণে অনুন্য ৯৬.০ শতাংশ সোডিয়াম ক্লোরাইড, অনধিক ০.১ শতাংশ পানিতে অদ্রবনীয় পদার্থ, ৩.০ শতাংশ সোডিয়াম ক্লোরাইড ব্যতীত পানিতে দ্রবনীয় পদার্থ, ৪.৫ হতে ৫.০ লক্ষাংশ আয়োডিন(উৎপাদনের সময়) এবং খুচরা বিক্রির সময় অন্যুন ২.০০ লক্ষাংশ আয়োডিন থাকতে হবে।
আয়োডিনের অভাবে ঘ্যাগ বা গলগন্ড ছাড়াও মায়ের বিকলাঙ্গ সন্তান প্রসব, স্নায়বিক দুর্বলতা, বধিরতা, বাকশক্তিহীনতা, বিভিন্ন রকম দৈহিক ত্রুটি, মানসিক প্রতিবন্ধকতা, বামন বা বেঁটে হওয়া, শিশুর মস্তিষ্ক গঠনের বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার মত মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ১৫০ মাইক্রোগ্রাম আয়োডিনের প্রয়োজন। আয়োডিনের অভাবজনিত সমস্যা কারো একবার দেখা দিলে তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা প্রায় অসম্ভব। তাই আয়োডিনের অভাবজনিত সমস্যাগুলোর চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই বিশেষভাবে কাম্য। আর আয়োডিনের অভাবজনিত সমস্যা প্রতিরোধের অন্যতম সহজ ও কার্যকরী উপায় হচ্ছে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করা।
কিন্তু খোলা বাজারে অবাধে আয়োডিনবিহীন লবণ বিক্রির ফলে জেলার বিজয়নগরের অধিবাসীরা দিন দিন আয়োডিনের অভাব জনিত রোগে ভূগছে। পর্য়ায়ক্রমে এই উপজেলায় ক্রমাগত আয়োডিনের অভাবজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
সচেতন সমাজের দাবী, বিজয়নগরবাসীর সু-স্বাস্থ্যের প্রতি লক্ষ্য রেখে অচিরেই এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা...