কানযুল ঈমান’ ও ‘নূরুল ইরফান-এর বিরুদ্ধে বিষোদ্গারের জবাব :: মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান

মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান
অনুবাদক, কানযুল ঈমান ও নূরুল ইরফান

আজ ২৪/০১/২০১৮ইং Facebook-এ জনৈক ‘মুনাফিক ফিল ইসলাম’ ওরফে ‘মাফিকুল ইসলাম’ নামধারী কর্তৃক ‘কানযুল ঈমান ও নূরুল ইরফান’-এর মতো অতি বিশুদ্ধ তরজমা ও তাফসীরুল ক্বোরআন-এর বিরুদ্ধে বিশ্রীভাবে বিষোদ্গারের চিত্র, মিথ্যা অপবাদ ও প্রলাপের জবাব (খন্ডন) লিখতে বসলাম।

[কৈফিয়ৎ এ ধরনের মুনাফিক্ব ও কুলাঙ্গারদের কোন অপপ্রচার দেখার সাথে সাথেই সেটার খন্ডন করতে আমি সচেষ্ট হই; কিন্তু নানা ব্যস্ততা এবং দীর্ঘদিন যাবৎ Facebook নিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট না করার কারণে এ মুনাফিক্বের খন্ডন করতে বিলম্ব হয়ে গেলো। তাই আমি আন্তরিকভাবে দুঃখবোধ করছি।]

Facebook-এ উক্ত মুনাফিক্ব ওরফে মুনাফিক্ব আমার অনূদিত তরজমা ‘কানযুল ঈমান’ ও ‘নূরুল ইরফান’-এর বিরুদ্ধে যা করেছে তার প্রতিটি বিষয়েরই বিস্তারিতভাবে জবাব দেয়ার প্রয়পাস পাচ্ছি –
আমি দেখলাম –

প্রথমত: সে ‘কানযুল ঈমান’ ও তাফসীর-ই নূরুল ইরফান’-এর অতি আকর্ষণীয় ও সুন্দর কভারটাকে লাল কালি দিয়ে এমনভাবে ঘষামাজা করে দেখালে যেন সে সেটার উপর, কাফির-মুরতাদ্দের মতো, পায়খানা করে দিয়েছে।

দ্বিতীয়ত, সে একইভাবে আমার নামটাকেও লালগোল বৃত্তে এঁকে ঝাপসা করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
তৃতীয়ত, এ বিশুদ্ধ গ্রন্থের বিরুদ্ধে বিষোদএগার করতে গিয়ে সে ‘সূরা কাহফের ৭৩ নং আয়াত’-এর অনুবাদ ও পার্শ্বটীকাকে লালকালি দিয়ে চিহ্ণিত করে একটি নাতিদীর্ঘ অমূলক মন্তব্য করে বিভ্রান্ত করেছে।

চতুর্থত, আমার কৃত অনুবাদ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে সে বলতে চেয়েছেন আমি নাকি ভুল অনুবাদ করেছি এবং এর টীকা-তাফসীরের শেষাংশটা আমার নিজের রচিত, মূল কিতাবে নাকি কথাটা নেই।
পঞ্চমত, উদ্ধৃত আয়াতে তার মতে, সঠিক অনুবাদ ও তাফসীর (!) কি হবে তা না লিখে সম্পূর্ণ অবান্তরভাবে ওই অনুবাদ ও পার্শ্চটীকার অনূদিত বক্তব্য থেকে মওদূদী ও তাঁর ভ্রান্ত তাফসীর তাফহীমুল ক্বোরআন-এর সাথে মিল, একমনকি আমি ও মওদূদীর সাথে খুঁজতে গিয়ে ওই দুর্গন্ধময় কাদায় হাবুডুবু খেয়ে তার ময়লাযুক্ত দেহ ও মুখটি নিয়ে বের হয়ে এসেছে। সে তার পোড়া মুখে সম্পূর্ণ অবিবেচকের ন্যায় বলে ফেলেছে, আমি আর মওদূদী নাকি ‘একই মুদ্রার এপিট-ওপিঠ’ ইত্যাদি। এমনকি অনুবাদটাও নাকি একটি কুফরী অনুবাদ। (না‘উযু বিল্লাহ) এখন দেখুন, এ সব ক’টি চিহ্ণিত বিষয় সম্পর্কে আলোচনা-

প্রথমত, কিছুদিন পূর্বে Facebook -এ দেখলাম, এক ফিলিপিনো কাফির হতভাগা পূতঃপবিত্র কালামুল্লাহ্ শরীফ ক্বোরআন-ই করীমের একটি খোলা কপির প্রতি জঘন্য ধৃষ্ঠতা দেখাচ্ছে- ক্বোরআনের প্রতি তার ঘৃণা প্রকাশের জন্য। (না‘ঊযুবিল্লাহ্!) আর দেখলাম, সারা দুনিয়ার মানুষ ওই হতভাগা কাফিরকে লা’নত ও ধিক্কার দিচ্ছে। কোন হতভাগা মুসলমান খ্রিস্টান হতে গেলে কিংবা কোন হতভাগা কামরূপ/কামাখ্যায় (ভারত) যাদু শিখতে গেলেও নাকি প্রথমে এভাবে ক্বোরআন-ই করীমকে অপমান করে কাফির হয়ে যেতে হয়। সুতরাং এ দুর্ভাগা ‘মুনাফিক্ব ফিল ইসলাম’ ওরফে মাফিকুল ইসলাম এবং উক্ত সব ক্বোরআন অবমাননাকারীদের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

ওই হতভাগা ‘কানযুল ঈমান ও নূরুল ইরফান’-এ ‘সূরা কাহফের আয়াত ৭৩ -এর অনুবাদ ও সেটার টীকা নং ১৬৩-এর কৃত বিশুদ্ধ বঙ্গানুবাদের বিরুদ্ধে অপবাদ ও বিষোদ্গার করতে গিয়ে নিজেকে বড় আশেকে রসূল (!) দেখাতে চেয়েছে। বস্তুত এতে সে খারেজীদের চরিত্রই দেখিয়েছে। খারেজীরাতো আহলে বায়তের দুশ্মন। কিন্তু একবার হঠাৎ করে তাদের হীনস্বার্থে হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর প্রতি ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটালো। ঐতিহাসিকগণ মন্তব্য করেছেন ‘লা-লিহুব্বে আলী, বাল্ বিবুগদ্বি মু‘আভিয়া।’ তারা এমনটি করেছে হযরত আলীর প্রতি ভালবাসার কারণে নয় বরং হযরত আমীর মু‘আভিয়ার প্রতি শত্রুতা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে। এ মাফিক/মুনাফিক্বও সুন্নী মতাদর্শের এ বিশুদ্ধ তরজমা ও তাফসীরের প্রতি তার ঘৃণা ও শত্রুতা প্রকাশের জন্যই এমনটি করেছে। কারণ, সে এমনটি করলো ডাহা মিথ্যা ও অপবাদ রচনার মাধ্যমে। এ পর্যন্ত ‘কানযুল ঈমান ও নূরুল ইরফান’র বিরুদ্ধে তো কোন সুন্নী যায়নি, বরং তাঁরা তো এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন।

পক্ষান্তরে, এর বিরোধিতা করেছে ওহাবী, মওদূদী মতবাদী ও শিয়া মতবাদীরা। যেমন- ‘কান্যুল ঈমান ও খাযাইনুল ইরফান’-এর বঙ্গানুবাদ প্রকাশের (১৯৯৫ইং) পর সর্বপ্রথমে এর বিরুদ্ধে অমূলক বা ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছিল ‘দৈনিক ইনকিলাব’-এ ঢাকার জনৈক ওহাবী গোলাম মুহিদ্দীন, তারপর চট্টগ্রামের পটিয়ার ওহাবী মাদরাসা থেকে প্রকাশিত একটি ‘মাসিক’-এর এক ওহাবী লেখক আর অতি সাম্প্রতিককালে এ হতভাগা মুনাফিক্ব Facebook -এ। আমি প্রথমোমুক্তদের খন্ডন সাথে সাথে করেছি আর শেষোক্ত, লোকটির খন্ডনও এ নিবন্ধে করছি। সুতরাং এতে সন্দেহের অবকাশ নেই যে, এ লোকটি সুন্নী তো নয় বরং শিয়া-মুরতাদ্দের দোসর, অথবা খারেজী-ওহাবী অথবা বর্তমানের ইরানী শিয়া মতবাদীদের উচ্ছিষ্ট খোর। কারণ, এরা তো এ পর্যন্ত সুন্নীদের কোন উপকার করেনি বরং হয়তো সশরীরে সুন্নীগণ ও সুন্নী নিদর্শনগুলোর উপর আক্রমণ করেছে, প্রমাণস্বরূপ, উপমহাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘জামেয়া’কে ভাঙ্গতে চেয়েছে। সুন্নী সংগঠন ও দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে মূল দলের নামের হেরফের করে দলে বিভক্তি দেখিয়েছে, আর মিথ্যা ও অপবাদের মাধ্যমে আম সুন্নী জনতার মধ্যেও বিভেদ আর সন্দেহ সৃষ্টি করেছে ও করে যাচ্ছে। এরা এমন জঘন্য মুনাফিক্ব যে, তাদের এসব অপকর্মের জঘন্য পরিণাম সম্পর্কেও তারা কোন তোয়াক্কা করে না।

বাবরি মসজিদ যারা ভেঙ্গেছে তাদের অনেকে হয়েছে অন্ধ, অনেকে হয়েছে পঙ্গু, আর সর্বপ্রথম যেই শিখ ধর্মাবলম্বীটি মসজিদে আঘাত করেছে সে নিজ পরিবার-পরিজন থেকে বিতাড়িত হয়েছে এবং সে এখন অনুতপ্ত হয়ে মুসলমান হয়ে গেছে এবং ওই পাপের পায়শ্চিত্ত করতে চাচ্ছে। আর জামেয়ায় আঘাতকারীদের কেউ কেউ হয়েছে পঙ্গু আর বাকীরা অভিশপ্তের মতো ঘৃণিত ও লাঞ্ছিত হয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। সুতরাং ‘কান্যুল ঈমান’ এবং ‘খাযাইনুল ইরফান’ ও ‘নূরুল ইরফান’-এর মতো বিশুদ্ধ তাফসীরের অবমাননাকারী মুনাফিক্বটির মিথ্যা ও অপবাদগুলোতো আমি চিহ্ণিত করে দিচ্ছি; কিন্তু আল্লাহর কঠিন শাস্তি থেকে সে পার পাবে না। ইনশা-আল্লাহ।

দ্বিতীয়ত, ‘কানযুল ঈমান’ ও এর সাথে সংযোজিত ‘তাফসীর-ই খাযাইনুল ইরফান’ ও ‘নূরুল ইরফান’ যে বিশুদ্ধতম তরজমা ও তাফসীর-ই ক্বোরআন একথা সুন্নী ও অসুন্নী সবাই জানেন ও মানেন। আর মাফিক/মুনাফিক্বের মিথ্যা ও অপবাদের জবাব দিতে গিয়ে নিম্নে আমাকেই আমার কথা বলতে হচ্ছেঃ

আল্লাহর খাস তাওফীক্বক্রমে আমি গুনাহগার ‘কান্যুল ঈমান’ ও এর সাথে সংযোজিত দু’টি টীকা- তাফসীর ‘খাযাইনুল ইরফান’ ও ‘নূরুল ইরফানের’ যেই বঙ্গানুবাদ করেছি, আলহামদুলিল্লাহ্! আলিমদের মধ্যে ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা হাশেমী সাহেব ক্বেবলা ও গায্যালী-ই যামান আল্লামা মুসলেহ উদ্দীন সাহেব হুযূর , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. রঈস উদ্দীন সাহেব এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. রশিদ ও ড. মুনিরসহ অনেক বিজ্ঞ ও বরেণ্য ব্যক্তি তা (বঙ্গানুবাদ) বিশুদ্ধ হয়েছে বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. আবদুল অদুদ সাহেব এ অনুবাদ উপস্থাপন করলে ওই অন্যতম সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে সেটাকে সিলেবাসভুক্ত করা হয়েছে।

এ বিশুদ্ধ অনুবাদের জন্য পাকিস্তানের করাচির ‘তাহক্বীক্বাত-ইমাম আহমদ রেযা ইন্টারন্যাশনাল’-এর ব্যবস্থাপনায় করাচি উর্দু ইউনিভার্সিটিতে, ওখানে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ‘গোল্ড মেডেল’ দিয়েছে, একইভাবে দুবাই, ইউএই কেন্দ্রিক রেযা একাডেমীর কর্মকর্তাগণ বাংলাদেশে এসে ‘দিনাজপুর ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারে’ আমন্ত্রণ জানিয়ে আমাকে ‘স্বর্ণপদক’ (গোল্ড মেডেল) দিয়েছেন। দেশের আরো বিশোর্ধ সংখ্যক সাহিত্য ও জ্ঞানগত সংগঠন-সংস্থা আমাকে সম্মাননা দিয়েছে। এ পরম্পরা এখনো অব্যাহত আছে। কিছুদিন পূর্বে আগ্রাবাদের পীর সাহেবও, আমার সাথে নাঙ্গলমোড়া নিবাসী তাঁর এক মুরীদের বাড়িতে সাক্ষাত হলে, তিনি নিজেই বলেছেন, তাঁর লিখিত একটা লেখনীতে আমার অনূদিত কান্যুল ঈমান ও তৎসঙ্গে সংযোজিত তাফসীর দু’টি থেকে উদ্ধৃিত নিয়েছেন।

এখনতো তবুও তোমাদের মিথ্যা ও অপবাদের ধরনটুকুও চিহ্ণিত করতে হবে বৈ-কি
সূরা কাহফের যেই আয়াতের অনুবাদ ও পার্শ্বটীকার অনুবাদে আমি ভুল করেছি বলে মাফিক/মুনাফিক্ব যেই বিষোদ্গার করলো, তার কথা শুনে আমি ভেবেছিলাম- আমিতো আর নিষ্পাপ কিংবা মাহফূয কোনটাই নই, বাস্তবেও আমি কথিত অনুবাদে ভুল করলাম কিনা? যাক, আল্লাহ পাকের শোক্র, একটু পরে এ নিবন্ধেই আমি ইনশা-আল্লাহ্ প্রমাণ করবো যে, সেখানে আমার কোন প্রকার ভুল হয়নি, বরং তারাই ডাহা মিথ্যা ও অপবাদ দিয়ে আমার লেখনীও নামের উপর কালি ছিঁটিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। আরো বুঝতে দেরী হয়নি যে, তারা নিরেট বাতিলপন্থী হবার কারণেই আমাদেরকে পছন্দ করে না, আমাদের সাথে নিরেট শত্রুর মতো আচরণ করেছে। আমি এখানে বলবো, আল্লাহ্ তা‘আলা এরশাদ করেন, “মূ-তূ বিগায়যিকুম!” হে কাফির। মুনাফিক্বরা! তোরা তোদের ক্রোধে ফেটে পড়ে মরে যা!

তৃতীয়ত, যে আয়াতের কথা বলেছিস- সূরা কাহফের ৭৩নং আয়াতটি আমি এখানে উদ্ধৃত করলাম-
قَالَ لَا تُؤَاخِذْنِي بِمَا نَسِيتُ وَلَا تُرْهِقْنِي مِنْ أَمْرِي عُسْرًا

এর বঙ্গানুবাদ হলো- ‘‘বললো, ‘আমাকে আমার ভুলে যাবার জন্য পাকড়াও করোনা।১৬৩ এবং আমার উপর আমার কাজের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করোনা’।’’ [কানযুল ঈমান]

টীকা-১৬৩. ‘‘আমার স্মরণ ছিলোনা যে, ‘আপনি আমার নিকট থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন আর আমারও এ ওয়াদা ছিলো।’ শরীয়তের দৃষ্টিতে ভুলে যাওয়ার উপর গুনাহ্ বর্তায়না। সুতরাং আপনিও ক্ষমা করুন!’’

এ থেকে বুঝা গেলো যে, সম্মানিত নবীগণের সামান্য ভুল-ত্রুটি হয়ে যায়। একথাও বুঝা গেলো যে, পীরের উচিৎ যেন লোকজনকে তাড়াহুড়া করে মুরীদ বানানোর প্রতি বেশী আগ্রহী না হন; বরং সত্যিকার মুরীদের পরীক্ষা নেওয়া চাই। (রূহ, অর্থাৎ তাফসীর-ই রূহুল বয়ান) [নূরুল ইরফান]

পর্যালোচনা:
এখানে আল্লাহ্ তা‘আলা হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম-এর উক্তি উদ্ধৃত করেছেন। খোদ্ হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম হযরত খাদ্বির আলায়হিস্ সালামকে একথা বলেছেন, ‘‘লা তুআ-খিয্নী বিমা নাসী-তু।’’ আপনি আমাকে পাকড়াও করবেন না তার জন্য, যা আমি ভুলে গিয়েছি।’’ ‘নাসী-তু’-নিস্ইয়ান থেকে গৃহীত; যার অর্থ ভুলে যাওয়া, ভুলে যাওয়া শরীয়ত মতে ধর্তব্য নয়, গুনাহ্ও নয়। তাছাড়া এ ‘ভুলে যাওয়া ও সাহভ করা’ নবীগণ থেকে সম্পন্ন হতে পারে। এটা নবীগণ মা’সূম হবার জন্য ক্ষতিকর নয়। তাফসীর-ই নূরুল ইরফান-এ নিস্ইয়ানের অর্থ করা হয়েছে بهول چوك (ভুল চূক) আর এর বঙ্গানুবাদ হয়- ‘সামান্য ভুল-ত্রুটি’। এখানে এ ‘ভুল’ মানে ভুলে যাওয়া আর ‘ত্রুটি’ মানে সাহ্ভ, লাগযিশ’ (একটু পা পিছলে যাওয়া)। এর কোনটই যেহেতু গুনাহ্ নয়, সেহেতু তা নবী ‘মাসূ’ম বা নিষ্পাপ হওয়ার জন্যও ক্ষতিকর নয়। ভুলে যাওয়া, ইজতিহাদে ‘সামান্য ত্রুটি’ হয়ে যাওয়া নবীর মা’সূমিয়াতের জন্য ক্ষতিকর নয়। একথা বলেছেন, আমাদের সব মুফাস্সির, মুহাদ্দিস, আক্বাইদের ইমামগণও।
[সূত্র. তাফসীর-ই রূহুল বয়ান, শরহে ফিক্বহে আকবার ইত্যাদি]
সুতরাং তজরমা কান্যুল ঈমান ও তাফসীর-ই নূরুল ইরফান একেবারে বিশুদ্ধ।

চতুর্থত, একজন কতবড় অকৃতজ্ঞ, মিথ্যুক ও হিংসুক হলে, যার সারা জীবন মওদূদী, ওহাবী ও শিয়া প্রমুখ সব বাতিলপন্থী বিরুদ্ধে প্রাণপণ সংগ্রাম, তার বিরুদ্ধে কুফরী ও মওদূদিয়াতের অপবাদ দিতে পারে? হে অপবাদরটনাকারী! তোমাদের কাজতো মুনাফিক্বের মতো মুসলিম সমাজে মিথ্যা ও বানোয়াটের মাধ্যমে বিচরণ করা। তোরা হয়তো জানিস না কিংবা জেনেও অপবাদ রচনা করছিস্! যখন তোরা মওদূদী-মতবাদীদের দৌরাত্মের সময় তাদের পদলেহন করেছিলি তখন আমি, প্রাণের বাজি রেখে তাদের বিরুদ্ধে কলম ধরেছি এবং সাংগঠনিকভাবে মোকাবেলা করেছি। গোলাম আ’যমের ‘আমপারা তাফসীর’ ও ‘ইসলামে নবীর মর্যাদা’ ইত্যাদি বেয়াদবীপূর্ণ বইয়ের বিরুদ্ধে কে বা কারা প্রতিবাদ করেছিলো? তোরা, না আমরা? সাঈদীর ‘ভ্রান্ত তাফসীরের স্বরূপ উন্মোচন’ কে করেছে? একটু খবর নিয়ে দেখ! আর যে সূরা ‘নসর’-এর মওদূদীর তাফসীর তাফহীমুল ক্বোরআনের সাথে আমার অনূদিত নূরুল ইরফানের মিল আছে বলছিস, এমনকি নূরুল ইরফানের সঠিক অনুবাদের বিরুদ্ধে কুফরীর অপবাদ দিয়েছিস, সে সম্পর্কে আমার বক্তব্য শোন্! ‘‘বরং যখন বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড ৬ষ্ঠ শ্রেণীর পাঠ্য বইতে সূরা নসরের ব্যাখ্যায় মওদূদীর ভ্রান্ত তাফসীর সন্নিবিষ্ট করে নবী করীমের ‘নিষ্পাপ’ গুণের বিপক্ষে লিখেছে, তুই বা তোরা তখন কোথায় ছিলিস? আমি নিজেই এর খন্ডনে লিখে ৫১ জন দেশবরেণ্য আলিমের সই নিয়ে দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় পাঠাই। তাতে সঠিক বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে- আল্লাহ্ তাঁর রসূলকে উম্মতকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য ওই নির্দেশ দিয়েছেন। অথবা উম্মতের গুনাহ্র ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, কারণ তাঁর গুনাহ্ নেই। তিনি নিষ্পাপ। কিন্তু মওদূদী বলেছে নবী করীম নাকি নবূয়তের দায়িত্ব পালনে যেসব তথাকথিত ভুল করেছেন, সেগুলোর জন্য ক্ষমা চাইছেন। যা মওদূদীর জঘন্য ভুল ব্যাখ্যা ছিলো সুতরাং তখন দৈনিক ইনক্বিলাব (১৫/০৩/২০১৬ইং সংখ্যায়), দৈনিক জনকণ্ঠ (১৮/০৩/২০১৬ইং)-এ বড় বড় শিরোনামে তা ছাপিয়েছিলো এবং সারা দেশে এর বরাতে তোলপাড় হয়েছিলো এবং মাদরাসা বোর্ড পাঠ্য বই থেকে তা বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। তাছাড়া, মওদুদী, ওহাবী ও শিয়াদের বাতিল মতবাদগুলোর খন্ডন করে স্বনামে, ছদ্মনামে, বইপুস্তক ও লিফলেট কে প্রকাশ করেছিলো? তুই ও তোর গুরু ঠাকুররা কখনো তো মওদূদীপন্থী ও ওহাবীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলিস নি। আর এখন তো শিয়াদের উচ্ছিষ্ট খাওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিস, মুআয্যিনের উপযুক্ত নয় এমন ভন্ডকে ‘ইমাম’ বানিয়ে দেদারসে ইরানের শিয়াদের থেকে টু-পাইস গলধ করণ করছিস আর সুন্নীদের বিরুদ্ধে নানাভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছিস! এখন টার্গেট করেছিস আ’লা হযরতের মসলকের লেখক ও লেখনীগুলোকে। মিথ্যা ও অপবাদের মাধ্যমে তাঁদের বিতর্কিত করে তোলার ষড়যন্ত্র করছিস।

আল্লাহর লা’নত মিথ্যাবাদীদের উপর। (আল ক্বোরআন) আল্লাহ্ তোদেরকে কখনো কামিয়াব করবেন না।

সূরা কাহাফের আয়াত নং ৭৩ এর টীকা নং ১৬৩ এর বিশুদ্ধ অনুবাদ ব্যাখ্যা (তাফসীর)-এর বিরুদ্ধে তুই (হে মাফিক বা মুনাফিক্ব) যে কুফরী ফাতওয়া দিয়েছিস, তা কোথায় গিয়ে পড়েছে ভেবেছিস কি? স্বয়ং আল্লাহ্ তা‘আলার পবিত্র শানে, তাঁর নবী হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম-এর বিপক্ষে, (কারণ তিনি বলেছেন, نَسِيْتُ আমি ভুলে গিয়েছি) আর আল্লাহ্ তা‘আলা তা উদ্ধৃত করেছেন), আ’লা হযরতের বিরুদ্ধে, হাকীমুল উম্মত মুফতী আহমদ ইয়ার খানের বিপক্ষে, তাফসীর-ই রূহুল বয়ানের প্রণেতা আল্লামা ইসমাইল হুক্কীর বিপক্ষে, তারপর এসে আমার বিপক্ষে। জানিস্ কুফরীর ফাত্ওয়া সঠিকভাবে আরোপ করা না হলে তা আরোপকারীর উপর এসে বর্তায়। অর্থাৎ সে নিজেই কাফির হয়ে যায়।

পরিশেষে, মুনাফিক্বী ছাড়্, নিজের পরিণতির কথা ভেবে দেখ। তাওবা কর, হয়তো পার পাবি!

ফেসবুক থেকে Masud Hosain এর পোষ্ট থেকে সংগৃহিত

facebook link https://www.facebook.com/masud.hosain.902/posts/385610041900660

বিশ্বের বিশুদ্ধতম তরজমা-ই ক্বোরআন ‘কানযুল ঈমান’ সঠিক তাফসীর ‘নূরুল ইরফান’ ফটো নিম্নরূপ-

কপি:- Iqbal uddin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা...