৩৬ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ে মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শিগগির শুরু হচ্ছে

channelnewsbd.com :: প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ে কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শিগগির শুরু হচ্ছে।

জানা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে একটি বন্দরও গড়ে তোলা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৫ জানুয়ারি মাতারবাড়িতে দেশের সবচেয়ে বড় এই কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করবেন।

সূত্র মতে, জাপানের পাঁচ কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়াম এ প্রকল্পের যন্ত্রাংশ সরবরাহসহ নির্মাণ কাজে সম্পৃক্ত থাকবে। জাইকা প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। দৈনিক ১২শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন আল্ট্রা সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির এ প্রকল্প দেশের বিদ্যুৎ খাতের সংকট উত্তরণে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, মহেশখালীর মাতারবাড়িতে কুহেলিয়া নদীর তীরে সাত হাজার ৬৫৬ একর জমিতে আল্ট্রা সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির সমন্বয়ে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয় বেশ আগে। মোট ৩৬ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে জাইকা প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিচ্ছে।
জাপানের পাঁচ কোম্পানি এ প্রকল্পে ইকুইপমেন্ট সরবরাহসহ নির্মাণ কাজে সংশ্লিষ্ট থাকবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সুমিতোমো করপোরেশন, আইএইচআই, তোশিবা এবং পেন্ট–ওসেন কনস্ট্রাকশন। কোম্পানিগুলো বয়লার, পাওয়ার জেনারেটরসহ আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করবে। পেন্টা–ওসেন কনস্ট্রাকশন নামের কোম্পানি বন্দর নির্মাণ করবে। যে বন্দরে কয়লাবাহী বড় বড় মাদার ভ্যাসেল বার্থিং নেবে। পরবর্তীতে এই বন্দরকে আরো বিস্তৃত করে বাণিজ্যিক ব্যবহারও নিশ্চিত করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্দর পরিদর্শন করেছেন। তারা এ বন্দর ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম বন্দরের সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলেও মনে করেছেন।

সূত্র আরো জানায়, আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুরোদমে চালু করার লক্ষ্য নিয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড অগ্রসর হচ্ছে। এটি এককভাবে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশের যোগান দেবে। আল্ট্রা সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এ কেন্দ্র থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের চেয়ে ২০ শতাংশ কম কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন করবে বলেও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। বর্তমানে ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় গ্যাস থেকে। কিন্তু গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ব্যাহত হয়। বর্তমানে দেশে কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় মাত্র ৩ শতাংশ। ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত পঞ্চাশ শতাংশ বিদ্যুৎ যাতে কয়লা থেকে উৎপাদন করা যায় সে লক্ষ্য নিয়ে সরকার অগ্রসর হচ্ছে। সরকারের এ লক্ষ্য অর্জনে মাতারবাড়ি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা...