জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১ প্রকল্প অনুমোদন

চ্যানেল নিউজ: ২০২১ সালের ২ জানুয়ারি থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী দেশে ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা পরিচালনা করা হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ১ হাজার ৭৬১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১’ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় এবারই প্রথম বিদেশে অবস্থানকারী প্রবাসী ও বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিদেশী নাগরিকদের গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিতে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১’সহ মোট দশ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।
সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রকল্প সম্পর্কে সাংবাদিকদের বিস্তারিত ব্রিফ করেন।
তিনি জানান, একনেক সভায় দশটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১১ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ৮ হাজার ২৭১ কোটি ২৩ লাখ টাকা,বৈদেশিক অনুদান সহায়তা ২৬৭ কোটি ১১ লাখ এবং বৈদেশিক ঋণ সহায়তা পাওয়া যাবে ২ হাজার ৯২৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১’ প্রকল্প সম্পর্কে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশে যষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা পরিচালনা করার জন্য এই প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে। এর আওতায় দেশে ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা পরিচালনা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালের ২ জানুয়ারি জনশুমারি গণনা কাজের উদ্বোধন করবেন। ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী গণনার কার্যক্রম চলবে।
তিনি বলেন, এবারই প্রথম যষ্ঠ জনশুমারিতে বিদেশে অবস্থানকারী প্রবাসী ও বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিদেশী নাগরিকদের গণনার অন্তর্ভূক্ত করা হবে। প্রবাসীদের তথ্য দেশে তাদের পরিবারের কাছে জানতে চাওয়া হবে। শতভাগ জনগণকে গণনায় অন্তর্ভূক্ত করে নির্ভূল জনশুমারি করা হবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরো জানান, এবারের জনশুমারিতে সারাদেশে মোট ৫ লাখ ৬ হাজার গণনাকারীকে কাজে লাগানো হবে।
প্রকল্পটি বাংলাদেশ পরিসংখ্যাণ ব্যুারো (বিবিএস) জুলাই, ২০১৯ থেকে জুন ২০২৪ মেয়াদে বাস্তবায়ন করবে।
১ হাজার ৭৬১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে পাওয়া যাবে ১ হাজার ৫৭৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা এবং বাকী ১৮৩ কোটি ১১ লাখ টাকা ইউএনএফপিএ, ইউএসএআইডি, ইউএনআইসিইএফ ও ডিএফআইডির কাছ থেকে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে।
একনেকে অনুমোদন পাওয়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পারমাণবিক নিরাপত্তা তদারকিকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিউক্লিয়ার রেপুলেটরি ইনফ্রাস্ট্রাকচার উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের কাজ ভালভাবেই এগিয়ে চলেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে যাবে আশা করি। এটির নিরাপত্তার জন্যই আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্কার সুপারিশ অনুযায়ীই নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে।
প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭১০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এর পুরোটাই বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হবে।
একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পসমূহ হচ্ছে-বাংলাদেশে ৪টি মেরিন একাডেমি স্থাপন প্রকল্প। এর খরচ ধরা হয়েছে ৫২১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। কিশোরগঞ্জ পাকুন্দিয়া-মির্জাপুর-টোক জেলা মহাসড়ককে যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ঢাকা আরিচা-মহাসড়কের আমিনবাজার, সালেহপুর ও নয়ারহাট নামক স্থানে ৩টি সেতু নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা। স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭১২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
এছাড়া ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে বৃহত্তর রংপুর জেলায় সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৫০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। ‘পল্লী কর্মসংস্থান ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি প্রকল্প-৩’ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ হাজার ৭২৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার পদ্মা শাখা নদীর ডান তীরের ভাঙ্গন হতে নওয়াপাড়া এলাকা এবং পদ্মা নদীর বাম তীরের ভাঙ্গন হতে চরআত্রা এলাকা রক্ষা প্রকল্পের ব্যয় হবে ৫৫৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরে পানি শোধনাগার ও গভীর নলকুপ স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৬৩২ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা...