তারা অশিক্ষিত হয়েই সাংবাদিক এ দায় কার?

আজকাল অনেক সাংবাদিকদের সাঙ্ঘাতিক বলে সম্বোধন করতে শুনা যায়। সাঙ্ঘাতিকরা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কল্যানকর নয়। নি:সন্দেহে ক্ষতিকর। রাজশাহীর প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাসী যখন সাংবাদিক, হেলপার যখন সাংবাদিক, মেকানিক যখন সাংবাদিক, বিয়ারিং দোকানদার যখন সাংবাদিক তখন কাকে সত্যিকার সাংবাদিক বলাবো? কিন্তু তারপরেও সাধারণ জনতা চায় মিথ্যার বেড়াজাল থেকে সত্য উন্মোচিত হোক। তথ্য সন্ত্রাসীদের হোক দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি, বিনাশ হোক তাদের দৌরাত্ম ।সূত্র বলছে, দৈনিক উপচার পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিক পরিচয়ে রাজশাহী দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন একটি চক্র। রাজশাহী রেলওয়েতে চাকরী দেয়ার কথা বলে ৪ লাখ, গরু চোরের সিন্ডিকেটকে আশ্রয় দেয়ার জন্য ৫০ হাজার, গুড়ীপাড়ার হিরোইন ব্যবসায়ীর ৩ লাখ, ইয়াবা ব্যবসায়ী সঞ্জুর কাছে ৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে এই চক্র ।।খোজ নিলে বেড়িয়ে আসে এসব নামধারী সাংবাদিকদের নাম। তারা হলেন- রাজশাহী বর্নালী মোড়ের মেকানিক হযরত মেকার তিনি উপাচারের সাংবাদিক। বর্ণালীর মোড়ে হযরতের গ্যারেজ চেনেনা এমন মানুষ খোঁজা দায়। তিনিও উপাচার পত্রিকার সাংবাদিক। শিক্ষাগত যোগ্যতা-নিরক্ষর।শ্রমিক ইউনিয়নের বাস টার্মিনালে ঢাকা কোচ ওয়াস করা বাবু ওরফে (কাজিম বাবু) এখন সাংবাদিক। তিনি এক সময়ের দৈনিক উপাচার পত্রিকার চীফ রিপোর্টার ছিলেন শিক্ষাগত যোগ্যতা ৫ম শ্রেনী পাশ।তিনি কখনো ডিজিএফ আই,কখনও ডিবি পরিচয় দিয়ে সম্প্রতি পবা থানায় গনপিটুনী খেয়ে জেল খাটেন। তার নামের বিভিন্ন থানায় ৪/৫ টি মামলার আছে ।বাসের হেলপার ইফতেখায়ের আলম বিশাল ওরফে (বিশাল রাজ) তিনিও সাংবাদিক, বাড়ী শিরোইল কলোনী বস্তিতে । তিনি যে সকল বাসে হেল্পারী করতেন সে সকল বাসে বিভিন্ন জেলাতে পত্রিকা পাঠানোর সুবাধে তিনিও সাংবাদিক।তাছাড়া, ইয়াবা ব্যবসায়ী তুষার এখন নুরে ইসলাম মিলনের পিএস।রাজশাহী নগরীর এক সময়ের বিয়ারিং ব্যবসায়ী নুরে ইসলাম মিলন ২০১৪ সালে রেজাউল নামের এক শিক্ষিত ছেলের হাত ধরে আসেন সাংবাদিকতায়। পরবর্তীতে রেজাউলকে ডিঙ্গিয়ে গড়ে তোলেন এক সিন্ডিকেট । অবশ্য মিলনের নামে শাহ মখদুম থানায় চুরি মামলা, চেক প্রতারনাসহ ১ হাজার বোতল ফেন্সিডিল, নারী দিয়ে ব্লাকমেইল সহ বেশ কিছু অভিযোগ আছে।এখন অবশ্য তিনি ৫ লাখ টাকা দামের একটি স্পোর্টস কার ব্যবহার করেন । তার বাড়িতে আছে এসি সহ ২ জন স্ত্রী । পারিবারিক ব্যকগ্রাউন্ড শূন্যের কোটায় হলেও ডিগ্রী কিংবা অনার্স পাশ না করে সাংবাদিকতায় এসে বিপুল সম্পত্তির মালিক তিনি। এর আগে যা কেউ কখনও করতে পারেনি । ভয়ঙ্কর অপরাধী থেকে তিনিও এখন সাংবাদিক।রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান সফল মেয়রের গাড়ীতে বোমা হামলা, ছিনতাই, বালুর ঘাট জবর দখলসহ জামাত-বিনপির নাশকতাকারী হিসেবে ৮/৯ টি মামলার আসামী ক্যাডার রাব্বানীও এখন সাংবাদিক। অবশ্য মতিহার, তালাইমারী, কাজলা কিংবা বিনোদপুরে যারা বসবাস করেন তারা অবশ্য তাকে সবাই চেনেন । তার নাম এখন মাসুদ রানা রাব্বানী ।সম্প্রতি, গত বুধবার নিউ রিলেশন কন্সট্রাকশনের রাস্তা নির্মাণকাজে অনিয়মের সূত্র ধরে ‘রাজশাহীর নওহাটা পৌরসভার রাস্তা নির্মাণের শুরুতেই অনিয়ম’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করলে ওই রাস্তার ঠিকাদার এএফ আজাদুল ইসলাম নতুনের পক্ষ নিয়ে ফের শুরু হয় এসব নামধারী অপসাংবাদিকদের তা-ব। সাংবাদিকরাজ্জাক ও আনোয়ারের নামে সচিত্র ছবি সহ মানহানীকর সংবাদ প্রচার করে নিউজটি মিথ্যের বেড়াজালে ডেকে দেয় তাদের সিন্ডিকেট। এভাবেই এই সিন্ডিকেটের আশ্রয়ে বিভিন্ন সময় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে জানান সচেতনমহল।এ বিষয়ে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিনিয়র সাংবাদিক ও সচেতন মহল বলেন, যত দ্রুত সম্ভব প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে এসব নামধারী সাংবাদিকদের রোধ করা প্রয়োজন। নইলে মিথ্যের বেড়াজালে সঠিক তথ্য জানতে আগ্রহ হারাবে রাজশাহীবাসী।নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা সদস্য বলেন, বৃহত্তর রাজশাহী জুড়ে ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে। এদের অপতৎপরতায় অসহায় হয়ে পড়েছেন প্রকৃত সংবাদ কর্মীরা। এতে বিভ্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয় প্রশাসন এবং প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুতই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেন তিনি।তাছাড়া, অপসাংবাদিকদের রুখতে কঠোর পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা...