আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইশতেহারঃ ডিজিটাল বাংলাদেশ পর্ব-২

আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইশতেহারঃ ডিজিটাল বাংলাদেশ পর্ব-২
ড. মোহাম্মদ আলমগীর কবীর, অধ্যাপক ও সাবেক প্রভোস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ্য়ঁড়ঃ; ভিশনকে সামনে রেখে এবং দুটো বিশেষ অঙ্গীকার (ক) আমার গ্রাম, আমার শহর- প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ(খ)তারুণ্যের শক্তি- বাংলাদেশের সমৃদ্ধি: তরুণ যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তিকে রূপান্তরিত করা এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তাসহ মোট ২১টি অঙ্গীকার ও বেশকিছু লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নিয়ে ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ইং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের সকল বিষয়াদিকে/সমস্যাকে অন্তর্ভুক্ত করে নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন করা সত্যিই দুষ্কর। ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর টীমকে অতি অল্পসময়ে এবং নানাবিধ ব্যস্ততার মধ্যেও এই ইশতেহারে সকল শ্রেনীপেশার মানুষের স্বপ্নের প্রতিফলন ঘটানোর জন্যে। আমরা মনে করি এদেশের মানুষ আগামী ৩০ ডিসেম্বর বিপুল ভোটে আওয়ামীলীগ ও তাঁর মিত্রদের জয়যুক্ত করবেন এবং ইশতেহারে বর্ণিত সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
এদেশের মানুষ প্রথম ্য়ঁড়ঃ;ডিজিটাল বাংলাদেশ্য়ঁড়ঃ; নামটির সাথে পরিচিত হন ২০০৮ সনে আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইশতেহারের মাধ্যমে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্ঠা মিস্টার সজীব ওয়াজেদ জয় এদেশের মানুষকে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন ২০০৮ সনে এবং তাঁরই পরিকল্পনায় বাংলাদেশের অর্জন ও সাফল্য অবিস্মরণীয়। দলটি তার নির্বাচনী ইশতেহার-২০১৮ তে উল্লেখ করেছে (১)২০২১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার বাস্তবতা ইতিমধ্যে সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান করা সম্ভব হয়েছে(২)থ্রি-জি মোবাইল প্রযুক্তির পর দেশে ফোর-জি মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার চালু করা হয়েছে, মোবাইল প্রযুক্তিকে আরও সুরক্ষিত করতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধিত হচ্ছে(৩)৫হাজার ৭৩৭টি ডিজিটাল সেন্টার এবং ৮হাজার ২০০টি ই-পোস্ট অফিসের মাধ্যমে জনগণকে ২০০ ধরনের ডিজিটালসেবা প্রদান করা হচ্ছে(৪)ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার সম্প্রসারণ করা হয়েছে(৫) দেশে মোবাইল সিম গ্রাহক ১৫কোটি ৪১লাখ ৭৯ হাজার এবং ইন্টারনেট গ্রাহক ৯কোটি ৫লাখ ১ হাজার(৬)২৫হাজার ওয়েবসাইট নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম ওয়েবপোর্টাল ্#৩৯;তথ্য বাতায়ন্#৩৯; চালু করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয়েছে(৭)জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের পাশাপাশি স্মার্টকার্ড এবং মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট চালু করা হয়েছে(৮)মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে মহাকাশ বিজ্ঞানের যুগে(৯) লার্নিং-আর্নিং, শি- ওয়ার, হাইটেক পার্ক, বিসিসি, বিআইটিএম, এলআইসিটি-র সহায়তায় প্রশিক্ষণ দিয়ে যুবক-যুবতীদের ডিজিটাল যুগের উপযোগী মানবসম্পদে পরিণত করা হচ্ছে (১০) ডিজিটাল খাতে রপ্তানি ২.৬মিলিয়ন ডলারের বিপরীতে এখন ৮০০মিলিয়ন ডলারে উপনীত হয়েছে(১১)মোবাইল ব্যাংকিয়ে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়েছে এবং মোবাইল ব্যাংকিয়ের গ্রাহক সংখ্যা সোয়া ৬ কোটি ছাড়িয়েছে। এইসব সাফল্য ও অর্জন আওয়ামীলীগকে এক নতুন মাত্রায় উপনীত করেছে বিশেষকরে তরুণ সমাজের কাছে।
উল্লেখিত সাফল্য ও অর্জনকে ভিত্তি ধরে দলটি ্#৩৯;ডিজিটাল বাংলাদেশ পর্ব-২্#৩৯; নামে তথ্য ও  যোগাযোগ প্রযুক্তির নতুন ধারনাপত্র দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করেছে। দলটির সামনের দিনের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ডিজিটাল যুগে বিশ্ব পরিমন্ডলে সামনের কাতারে থাকা, স্বপ্ন হচ্ছে মুজিব বর্ষ ২০২০, ডিজিটাল বাংলাদেশ বর্ষ ২০২১, এসডিজি বর্ষ ২০৩০ ও উন্নত বাংলাদেশ বর্ষ ২০৪১ সালের রূপকল্প বাস্তবায়ন করা। এই সব পরিকল্পনা বাস্তবাযনে ডিজিটাল ক্ষেত্রে বর্তমানে যে বিপ্লব চলছে, তা ক্রমে যুগোপযোগী করে অগ্রসর করার ভেতর দিয়েই গড়ে উঠবে তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ। তাদের ভিশনকে বাস্তবায়ন করার জন্য যে লক্ষ্য ও পরিকল্পনা করেছে তা হচ্ছেঃ
(১)২০২১-২৩ সালের মধ্যে ৫-জি চালু করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, বিগ ডাটা, ব্লক, চেইন, আইওটিসহ ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির বিকাশ ঘটানো(২)ই- পাসপোর্ট এবং ই-ভিসা চালু করা(৩)শিক্ষাকে পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তরের সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করা (৪) আর্থিক খাতের লেনদেনকে ডিজিটাল রা(৫) তথ্যপ্রযুক্তির সফটওয্যার, সেবা ও ডিজিটাল যন্ত্রের রপ্তানি ৭বিলিযন ডলারে উন্নীত করা(৬)বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ এবং সাবমেরিন ক্যাবল-৩ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয উদ্যোগ নেযা (৭)সামরিক বাহিনী, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ডিজিটাল সক্ষমতা বাডানো (৮) ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যবহারের মূল্য যুক্তি সংগত পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
ডিজিটাল বিষয়ক দেশী/বিদেশী গবেষকদের গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করলে একটা বিষয় খুবই পরিস্কার যে, আওয়ামীলীগের ডিজিটাল বাংলাদেশ পর্ব-১ (নির্বাচনী ইশতেহার-২০০৮)এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ পর্ব-২(নির্বাচনী ইশতেহার-২০১৮)বর্ণিত লক্ষ্য ও পরিকল্পনাসমূহ বাংলাদেশের জন্য খুবই উপযোগী।
এছাড়া আসন্ন নির্বাচনে বিভিন্ন জোট, দল ও ফ্রন্টের প্রণীত ইশতেহার বিশ্লেষন করলেও একটা বিষয় স্পষ্ট যে, আওয়ামীলীগ প্রণীত ইশতেহারটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বান্ধব। উল্লেখিত লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারনা।

লেখক : ড. মোহাম্মদ আলমগীর কবীর, অধ্যাপক ও সাবেক প্রভোস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা...