প্রকৃতির ওপর শীতের প্রভাব

প্রকৃতির ওপর শীতের প্রভাব

এম এ করিম

বাংলাদেশ ষড়ঝতুর দেশ,প্রকৃতির আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রভাবে বছরে ১২টি মাস ২ টি করে ৬টি ঝতু ভাগ করা হয়েছে, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ,হেমন্ত,শীত ও বসন্ত যা প্রকৃতির ওপর ব্যাপক ভাবে প্রভাব ফেলে।পৌষ-মাঘ এই দুই মাস নিয়েই শীতকাল। শুষ্ক চেহারা আর হীমশীতল অনুভব নিয়ে আসে শীত।এ সময় গ্রামবাংলা যেন শীতের চাদর মুড়ি দেয়।ভোরবেলা ঘন কুয়াশার ধবল চাদরে ঢাকা,হীমেল হাওয়ায় হাঁড় কাঁপিয়ে শীত জেঁকে বসে।শীতের দাপটে প্রকৃতি নীরব হয়ে যায় এবং সবুজ প্রকৃতি রুক্ষ্ণ রূপ ধারন করে।শীতের শুষ্কতায় অধিকাংশ গাছপালার পাতা ঝড়ে পড়তে থাকে। শীতের তাণ্ডবে প্রকৃতি বিবর্ণ হয়ে পড়ে।শীতের সকাল কনকনে ঠাণ্ডা আর ঘন কুয়াশায় থাকে ঢাকা।মনে হয় সবকিছু জড়োসড়ো হয়ে আসে,সামনে কোন কিছু ঠিকমত দেখা যায় না।কখনো কখনো কুয়াশার স্তর এত ঘন থাকে যে দেখলে  মনে হয় সামনে কুয়াশার পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে।অনেক দেরিতে ওঠে সূর্য, প্রকৃতির ওপর সূর্যের নির্মল আলো ছড়িয়ে পড়ে,দেখে মনে হয় সূর্যের আলোতে কোন তেজ নেয়। গ্রামের ছোট-বড় সকলেই মিষ্টি গরম সূর্যের আলোতে বসে গল্পের আসরে অন্যরকম আমেজ।সকালে মাঠে ঘাটে ঘাসের ডোগায় বিন্দু বিন্দু শিশির সোনালী রশ্মিতে মুক্তর মতো ঝলমল করে।এ সময় গ্রামের ক্ষেতে-ক্ষেতে ধান কাটা শুরু হয়,বাতাসে নতুন ধানের গন্ধ ভেসে বেড়াই।এ সময় শহর-গ্রামে সবখানে চলে নবান্ন উৎসব।শীতের সকালে মিষ্টি খেজুর রসে মন কাড়ে ছোট বড় সকলের। শীতের সকালে গাছিরা কলস ভরে রস নিয়ে আসে,আর এ খেজুরের কাঁচা রস রৌদ্রে বসে খাওয়াটাই যেন একটা আলাদা স্বাদ।খেজুর রসের পায়েস আর তারই গুড়ের কথা ভাবলে জিহ্বায় জল এসে যায়।গ্রামে-গ্রামে রং বেরঙের পিঠা, ক্ষির, পায়েস, বাড়ি পিঠা, পুলি পিঠা, রসের পিঠা, তেল পিঠা, ভাপা পিঠা, পাটি শাপটা সহ বিভিন্ন ছাঁচে তৈরী নাম না জানা সব পিঠা যা দেখলে সকলের মন কাড়ে।শীতকালের পাকা ধানের সোনালী রংঙের ক্ষেতের দৃশ্য দেখে চোখ ফেরানো যায় না।যেমন অলসতার নাম কৃষক নয় ঠিক তেমনি বসে নেয় কৃষক, পাকা ধান কেটে ঘরে তুলার পর পরই কৃষক বোরো আবাদে ব্যস্ত। সারাদিন কৃষক জমিতে চাষাবাদ করে তৈরী করে বীজতলা।শুধু  কৃষক ধান উৎপাদন নয় পাশাপাশি শীতকালিন সবজি লাল শাক,শিম,বরবটি,লাউ,টমেটো,গাজর,মুলা সহ বিভিন্ন সবজি উৎপাদনে নিজের চাহিদার পাশাপাশি বাড়তি আয় করে থাকে।এদিকে শীতকালে রং বেরঙের সব ফুল গাদা,ডালিয়া,সূর্যমুখী,গোলাপ প্রভৃতি শোভাবর্ধন করে।শীতের সকালে পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকান গুলোতে ধুম পড়ে যায়।শীতের দিনের ছোট হওয়ায় বেলা মাথার উপর আসতে আসতে যেন সন্ধ্যা নেমে আসে।শীতের প্রকৃতি যেন ঝিমিয়ে পড়ে,শীতের দাপটে অনেক অস্বস্তির অনুভূতি মধ্যে একটি হলো ঠোঁট ও পা ফেটে যাওয়া।আর এ সব থেকে রক্ষা পেতে বেড়েছে নানা প্রসাধনী কদর।শীতকালে বেড়ে যায় অতিথি পাখির আগমন,আর এ সব পাখির রোমাঞ্চকর দৃশ্য দেখে প্রকৃতির ওপর বড় মায়া হয়।তাছাড়া এ শীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শিক্ষা সফরে দেশের দর্শনীয় স্থান ও পিকনিক স্পটগুলোতে ভ্রমণ করা একটা অন্যরকম মজা।গ্রামের শীতে সকাল সন্ধ্যা আগুন জ্বালিয়ে উত্তাপ নেয়ার মধ্যে অন্যরকম অনুভূতি। এ সময় সরকার বা বিভিন্ন সংগঠন দুস্থ :গরিবদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতারণ করে থাকে,এতে করে ধনী গরিব ভেদাভেদ দূরকরে শীতকাল পার করে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা...