শরীয়তপুরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড :: ঘুমের মধ্যে পুড়ে নিহত-২ :: ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

শরীয়তপুর প্রতিনিধি :: শরীয়তপুর জেলা শহরের পালং উত্তর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীররাতে এ ঘটনা ঘটে। অগ্নিকান্ডে ঘুমন্ত অবস্থায় মিষ্টির দোকানের কর্মচারী বিশ^জিত সরকার (২০) ও পলাশ বৈরাগী (২৫) দগ্ধ হয়ে মারা যায়। এতে বাজারের অন্তত ১৫ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দুটি বসতবাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে। অগ্নিকান্ডে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পালং বাজার বণিক সমিতি।

শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীররাতে হঠাৎ একটি দোকানে আগুন দেখতে পেলে বাজার পাহাদাররা সঙ্গে সঙ্গে শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তাদের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুনের লেলিহান শিখা আশপাশে দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ডামুড্যা, গোসাইরহাট ও মাদারীপুর থেকে আরও ৩টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে তাদের সাথে যোগ দেয়। প্রায় দুই ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। এর আগেই আগুনে আবদুল বাতেনের পালং ডেকোরেটর দোকান, স্বপন মুন্সির ন্যায্য মূল্যের দোকান, গিয়াসের চালের দোকান, জাকির মুন্সির মুদি দোকান, রনজিৎতের কাশা পিতল, আলী আজমের লাইটিং, সজিবের কাপড়ের দোকান, নারায়ণ দত্তের ওষুধের দোকান, হারু ঘোষের হারু মিষ্টান্ন ভান্ডার, নারায়ন ঘোষের মিষ্টিান্ন ভান্ডার, তানভির বেডিং স্টোর, আবুল হোসেনের হার্ডওয়্যার, স্বপন দাষের আপন জুয়েলার্স, পলাশের ফ্ল্যাক্সিলোডের দোকান, আলী হোসেনের ইলেক্টনিক্স দোকান, সেভেন-আপ ও নাম্বার ওয়ান কোম্পানীর সবুজের গোডাউনসহ দুটি বাসাবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন পালং বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। এ সময় মিষ্টির দোকানে ঘুমন্ত দুইজন শ্রমিকের লাশের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছে ফায়ার সারভিস। নিহতরা হলেন, মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার কলাপুর গ্রামের রবীন্দ্র সরকারের ছেলে বিশ^জিত সরকার (২০) ও রুপচান বৈরাগীর ছেলে পলাশ বৈরাগী (২৫)। তারা হারু ঘোষের মিষ্টির দৈাকানের কর্মচারী ছিল। এর মধ্যে বিশ্বজিৎ কলেজে পড়ার পাশাপাশি পার্টাইম হিসেবে মিষ্টির দোকানে কাজ করতো বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে পালং বাজারের কাশাপিতল ব্যবসায়ী শ্রী লক্ষী বাসনালয়ের মালিক রনজিৎ কংশ বনিক বলেন, আমার দোকানে প্রায় কোটি টাকার মালামাল ছিল। আগুনে পড়ে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি।
আর পালং বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বেপারী বলেন, অগ্নিকান্ডে ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দুটি বাড়ি ভস্মীভূত হয়ে যায়। এতে আনুমানিক প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ফরিদপুরের উপ-পরিচালক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে শরীয়তপুরের ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। আমরা শরীয়তপুরের ডামুড্যা, গোসাইরহাট ও মাদারীপুরের একটি ইউনিটকে খবর দিলে ৪৫ মিনিটের মধ্যে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে এবং ভোর ৫টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মিষ্টিরদোকানের চুলা থেকে এই অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়েছে। এই মুহূর্তে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলতে না পারলেও সার্বিক অবস্থা যাচাই শেষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্নয় করা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা...