চাকরি হারানোর আতঙ্কে সেসিপ প্রকল্পের কর্মকর্তারা

ছালাতুর রহমান সবুজ :: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা আসার পর থমকে যাওয়া শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট ( সেসিপ) গঠন করেন।এ সময় জনবল ছিল ৬৫০ জন (প্রায়) এবং রাজস্ব বাজেটের এ প্রকল্পকে অবশ্যয় আত্মীকরণের মাধ্যমে স্থায়ী করা হবে প্রজেক্ট প্রপোজালে উল্লেখ ছিল।
২০০৭ সালে জুন মাসে সমাপ্ত করে পুনরায় সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট  (এসইডিপি) চালু হয়।এ প্রকল্পের প্রজেক্ট প্রপোজালে ও প্রকল্পের শেষে জনবল রাজস্ব বাজেটে নেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।এই প্রকল্প ও ২০১৪ সালে শেষ হয়ে যায়।
এরই মধ্যে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি -২০১০ যেটি ছিল স্বাধীনতা পরবর্তী   বাংলাদেশের সর্বপ্রথম  শিক্ষানীতি ও জাতীয় শিক্ষাক্রম -২০১২ গৃহীত হয়।তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকে মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পের কর্মকর্তাদের উপর।আর এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ও মানসম্মত শিক্ষা অর্জনের ২০১৫ সাল হতে  সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেষ্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেসিপ)এর যাত্রা শুরু করে।কিন্তু সেসিপ থেকে এসইডিপি,এসইডিপি থেকে পুনরায় সেসিপ করতে করতে প্রতি প্রকল্পের শুরুতেই যোগ্যতা প্রমানের জন্য কর্মকর্তাদের পরীক্ষা নামক প্রহসনের মুখোমুখি হতে হয়।ঝরে যায় অনেক দক্ষ জনবল,হুমকির মুখে পড়ে তাদের ভবিষ্যৎ ও পরিবার পরিজন।কর্তাব্যক্তিরা জানেন এভাবে পরীক্ষা নিলে ১৯৯৯ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি ২০১৫ সালে কখনোই কৃতকার্য হবে না।১০-১২ বছর চাকরি করে সরকারি চাকরির বয়স শেষ করে চাকরি হারিয়ে বেকারত্বের অভিশাপে পরিবার পরিজন নিয়ে কঠিন জীবন যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয় প্রকল্পের জনবলের অনেকেই।দিনের পর দিন তাদের অনেকেই সমাজ থেকে লুকিয়ে দিন যাপন করছে।
সেসিপ প্রোগ্রাম ২০১৪-২০২৩ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে ২০১৫ সালে অনেক জনবল নিয়োগ দেয়।তিন বছর যেতে না যেতেই  সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইডিপি) নামক নতুন প্রোগ্রামের কার্যক্রম হাতে নেয়।এবার ভাগ্য বিড়ম্বনায় পড়তে যাচ্ছে সহস্রাধিক পরিবার কেননা অন্যান্য বার এক প্রকল্প থেকে অন্য প্রকল্পে যাওয়ার তেমন কোন বাধা না থাকলে ও এবার এই প্রোগ্রামে সমাপ্ত প্রকল্পের জনবল যাবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।দক্ষ এ জনবলকে বেকারত্বের দিকে ঠেলে দিয়ে সরকারের ভিশন -২০২১ বাস্তবায়নকে যেন দুরে ঠেলে দিতে চাচ্ছেন কর্তাব্যক্তিরা।
যেখানে সদ্য সমাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন প্রকল্প রাজস্বখাতে গেছে,কৃষি মন্ত্রণালয়ের অসংখ্য প্রকল্প রাজস্বখাতে গেছে অথচ শিক্ষার এ শ্রমিকরা যেন সব সময়ই নির্যাতিত ও নিগৃহীত।
বর্তমানে দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান সংখ্যা ৩০৮২৩ টি (সুত্রঃইএমআইএস,মাউশি)।একজন কর্মকর্তা অন্যান্য দায়িত্ব পালনসহ মাসে গড়ে ১০টি বিদ্যালয় পরিদর্শনে সক্ষম হলে প্রতিটি বিদ্যালয়ে মাসে একবার নিবিড়ভাবে একাডেমিক পরিদর্শন করতে মোট ৩০৮০ জন কর্মকর্তার প্রয়োজন।কিন্তু মাঠ পর্যায়ে   একাডেমিক সুপারভিশনের জন্য আঞ্চলিক পর্যায়ে উপপরিচালক (০১ জন),বিদ্যালয় পরিদর্শক (০১ জন),বিদ্যালয় পরিদর্শিকা  (০১ জন), সহকারি বিদ্যালয় পরিদর্শক (০১ জন),সহকারি বিদ্যালয় পরিদর্শিকা (০১ জন)।জেলা পর্যায়ে জেলা শিক্ষা অফিসার (০১ জন),সহকারি জেলা শিক্ষা অফিসার (০১ জন) ও উপজেলা পর্যায়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (০১ জন) ও সহকারি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (০১ জন) ব্যতিত রাজস্বখাতে অন্য কোন জনবল না থাকায় মনিটরিং ও একাডেমিক সুপারভিশন কার্যক্রম যথাসময় ও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন দুঃসাধ্য।সেসিপ এ কর্মরত জনবলের মাধ্যমে একাডেমিক সুপারভিশন,মনিটরিং ও মেন্টরিং বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।নিয়োগপ্রাপ্ত জনবলকে সেসিপ,এসএসডিপি ও চলমান সেসিপের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করে দক্ষ ও অভিজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।তাদের বেশির ভাগই ১০-১৬ বছর যাবত কর্মরত এবং সবাই নিয়োগকালীন যোগ্যতায় একমাত্র শিক্ষাবিষয়ক প্রফেশনাল ডিগ্রীধারী( বিএড,এমএড)।
উল্লেখ্য যে সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেষ্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেসিপ)এর উপর্যুক্ত কার্যক্রমসমুহ অন্য দুই প্রজেক্টেরর কার্যক্রমসহ সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইডিপি)তে বাস্তবায়ন হবে।বিধায় উক্ত জনবলকে রাজস্বখাতে স্থানান্তরিত করে এসইডিপিতে একই কাজ বাস্তবায়নের সুযোগ প্রদান করলে দেশের জন্য অর্থ ও সময় যেমন রোধ হবে তেমনি শিক্ষানীতি বাস্তবায়নসহ মাধ্যমিক শিক্ষার সকল কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে এসডিজি এর চার নং লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।
প্রসঙ্গগত উল্লেখ্য যে,
★ অর্থ মমন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের২৭/০৫/২০১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত সেকেন্ডারি এডুকেশর ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইডিপি) এর উপর অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত  নেয়া হয়, ” এসইডিপি প্রোগ্রামে মাঠ পর্যায়ের জনবল রাজস্ব খাতে পদ সৃষ্টির মাধ্যমে নিয়োগ করা হবে।”
★ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ২১/০৩/২০১৮ তারিখে ১২.৩৯.০০.০০.০১.২০০৯-৩১ নং পরিপত্র মোতাবেক উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকুরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর সংক্রান্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সময় নির্দেশনা হলঃ উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে নেয়া বাঞ্চনীয়।।অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
★ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিগত ২১ আগস্ট ২০০৫ তারিখে এস.আর.ও নং -২৬৩-আইন/২০০৫/সম (বিধি-১)এস ৯/২০০০ মোতাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা ৬টি প্রকল্পের জনবল অস্থায়ীভাবে রাজস্বখাতে স্থানান্তর করা হয়েছে।এছাড়া ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ০৮টি প্রকল্পের জনবল ০৫ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে সকম/কর্ম-১শা/বিবিধ-৮/২০০৮-১৭২,মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২৯ এপ্রিল ২০১০ তারিখে মশিবিম/শাঃউঃ-২/০১/২০১০-১০৯ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ০৬টি প্রকল্পের জনবল ২৫ জানুয়ারী ২০১০ তারিখে শিমশা/শাঃ১৫/৬-১৯/২০০৩(অংশ-১)/৩২ সংখক সারসংক্ষেপেরর মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে রাজস্বখাতে স্থানান্তরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সদয় অনুমোদন করেছেন।
এমতাবস্থায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত পরিপত্র নং সম/সওবা/টিম-৪/(২)-উঃপ্রাঃনি/৪৭/৯৭-১৮৮,তারিখঃ ২১/০৮/১৯৯৭ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়েরর অর্থ বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত পরিপত্র নং অম/অবি/উন্নয়ন-১/বিবিধ-৫২/৯৬/৩২০,তারিখ ০৩/০৭/১৯৯৭,অম/অবি/উঃ১/বিবিধ-৫২/৯৬(অংশ-১)/৭৭০, তারিখ ৩০/০৯/২০০৪ সংখ্যক পরিপত্রসমুহের ব্যত্যয় ঘটিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ” সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেষ্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেসিপ)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কর্মরত জনবল রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের মাধ্যমে এসইডিপি প্রোগ্রামে সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের স্বার্থে উক্ত দক্ষ জনবলকে কাজে লাগানোর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন।
ছালাতুর রহমান সবুজ
রাজাপুর,অরুয়াইল,
সরাইল,ব্রাহ্মনবাড়িয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা...