‘পাওয়ার মধ্যে নয়, মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই স্বার্থকতা’

চ্যানেল নিউজ :: ছাত্রলীগের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পাওয়ার মধ্যে কোনো স্বার্থকতা নেই। মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই স্বার্থকতা। জাতির পিতার এ শিক্ষাই দিয়ে গেছেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তোমাদেরকেই আদর্শের পতাকা সমুন্নোত রেখে প্রগতির পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তোমাদের আদর্শ, শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি।’

আজ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ছাত্রলীগ আয়োজিত জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ ফজিলাতুননেচ্ছ মুজিব স্মরণানুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার আলো জ্বেলে প্রগতির পথ ধরে শান্তির মশাল নিয়ে তোমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে উন্নত সমৃদ্ধ শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে যে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি সে কাজটি তোমাদেরই এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আইযুব খান, জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া সবার বিরোদ্ধে যে আন্দোলন হয়েছে এতে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। অর্থাৎ দেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে ছাত্রলীগের অবদান রয়েছে। সুতরাং কাজেই ছাত্রলীগকে সেভাবেই চলতে হবে।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আরেকটা কথা হচ্ছে লেখপড়া শিখতে হবে। সব থেকে বড় সম্পদ শিক্ষা। ধন সম্পদ চিরদিন থাকে না। অনেকে যদি অনেক ধন সম্পদ বানিয়ে গর্ব করে যে চিরদিন সুখে থাকবে। সেটা সম্ভব না। কিন্তু শিক্ষা এমন একটা সম্পদ যা কেউ কেড়ে নিতে পারে না। তাই ছাত্রলীগের প্রত্যেকটা ছেলেমেয়েকে শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। তোমাদের মনে রাখতে হবে অনেকে রাজনীতি করে টাকা কামিয়ে রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছে। সেখান থেকে তোমাদের শিক্ষা নিতে হবে।’

নিজের কথা বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার বয়স শেষ হয়ে গেছে। তোমরাই ভবিষ্যত। তোমরাই জাতির পিতার দেখানো পথে এগিয়ে যাবে। আমাদের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করবে। যে আদর্শের পথ অনুসরণ করে বাংলাদেশকে আমরা উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্ব দরবারে দাঁড় করিয়েছি। স্বপ্লন্নোত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নীত করতে পেরেছি। জাতির পিতার আদর্শ মেনে চলেছি বলেই সেটা সম্ভব হয়েছে। তোমরা সে ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে।’

স্বাধীনতার পর পরেই শুরু হয়ে গেল জাতির পিতাকে নিয়ে অপপ্রচার। কারা করেছিল? জাতির পিতাকে হত্যার করার পর শুরু হয়ে গেল ভিন্ন রাজনীতি। কারা করেছিল? প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী।

সাম্প্রতিক বিষয়ে শেক হাসিনা বলেন, ‘দুটি শিশু সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেল। এটা দেখে বিভিন্ন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়। তাদের এই বিক্ষুব্ধ মনকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য একদল নেমে পড়ল। এর মধ্যে অনেকেই জ্ঞানী গুণী। অনেকেই আঁতেল। অনেকে একেবারে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন। খ্যাতি সম্পন্নরা কী করেছে?’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ আমি গড়ে দিয়েছি আর সে সুযোগ নিয়ে তাদের কাজ হয়ে গেল সোশ্যাল মিডিয়াতে অপপ্রচার চালানো, মিথ্যা বানোয়াট বলে বলে মানুষকে উস্কানি দেওয়া। এই উস্কানিতে কত শিশুর জীবন যেতে পারত। কত শিশু বিপদে পড়তে পারত একবারও তারা ভাবল না। বরং শিশুদের বিক্ষুব্ধ মনকে কাজে লাগিয়ে তারা ফায়দা লুঠতে চেয়েছে। আর তাদের প্রতি যখন ব্যবস্থা নিলাম তখন চারদিকে হাহাকার। আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও বিভিন্ন চাপ।’

নিজের কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা কথা জাতীয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মাথায় রাখা উচিত। আমি স্কুল জীবন থেকে রাজনীতি করি। আইযুব খান আমল থেকে। আমাদের পরীক্ষায় ২০ নাম্বারের পাকিস্তান আমল নিয়ে একটা চাপটার ছিল। আমি পন করেছি পাকিস্তান নিয়ে আমি লিখব না। লিখিনি। এজন্য ফেল করত পারতাম। থার্ড ডিবিশন পেতে পারতাম। আমি আপোষ করিনি। কাজেই আমি সেই মানুষ। নীতির প্রশ্নে আপোষ নাই। এটাই আমার শেষ কথা। ছোটবেলা থেকে রাজনীতি করছি। কখনো কোনো পদ পদবীর জন্য রাজনীতি করিনি। সংগঠনের প্রয়োজনের জন্য যেটা হওয়ার দরকার সেটা হয়েছে। আমি আমার নিজের প্রয়োজনে কিছু হয়নি। আমি, কামাল আমরা সবাই সবার কাজ করেছি সংগঠনের জন্য, দলের জন্য।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি এমন এক পরিস্থিতিতে দেশে ফিরে এসেছিলাম যখন খুনিরা পুরস্কৃত। যুদ্ধাপরাধীরা যাদের আমার বাবা বিচার করে সাজা দিয়েছিলেন। তাদের ছেড়ে দিয়ে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, উপদেষ্টা ইত্যাদি বানানো হয়েছে। এর পর নানা আঘাত। কখনো গ্রেনেড পুতে রাখা, কখনো গুলি নানা মডেলে তারা হামলার চেষ্টা হয়েছে। আমি এসব পরোয়া করিনি। কারণ আমি জানি আমি যে পথে আছি ন্যায় ও সত্যের পথে আছি। যে দুখী মানুষের জন্য আমার বাবা-মা ভাই স্বজন জীবন দিয়ে গেছেন তাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আমি কাজ করি। এটাই আমার রাজনীতি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী হয়ে তো বদলে যায়নি। আমি মনে করি। প্রধানমন্ত্রী হলেই তাঁতে শাড়ি বাদ দিয়ে দামি শাড়ি পড়তে হবে, মেকাপ করতে হবে। চুল উঁচু করতে হবে। আমার চিন্তা একটাই মানুষের জন্য কত কী করতে পারলাম। মানুষের জন্য কী দিতে পারলাম। তাদের ভাগ্য কতটা বদলাতে পারলাম।’

এ সময় বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা পর্যন্ত এদেশের প্রতিটি সংগ্রামে জাতির পিতা ও বঙ্গমাতার যে অবদান রয়েছে তার স্মরণ করেন।

ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী। এছাড়া ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা...